বাংলার রান্নাঘরে সরিষার তেলের জায়গা অনেক পুরোনো। ভর্তা, ভাজি, মাছের ঝোল কিংবা আচার — এক চামচ খাঁটি সরিষার তেল পুরো স্বাদটাই বদলে দেয়।
ঘানি কী?
ঘানি হলো সরিষা পিষে তেল বের করার পুরোনো পদ্ধতি। কাঠ বা পাথরের পাত্রে ধীরে ধীরে সরিষা পেষা হয়, তাই তেল খুব বেশি গরম হয় না। এভাবে বের হওয়া তেলে সরিষার নিজস্ব গন্ধ আর ঝাঁঝ বেশি থাকে — অনেকে একে কাঁচা ঘানির বা কোল্ড-প্রেসড তেল বলেন।
ঝাঁঝ আসে কোথা থেকে?
সরিষা পেষার সময় বীজের ভেতরের প্রাকৃতিক উপাদান মিলে একটি ঝাঁঝালো যৌগ তৈরি হয় — নাকে লাগা চেনা ঝাঁঝ সেটিই। ভালো ঘানির তেলের রং সোনালি, গন্ধ তীব্র আর জিভে একটু ঝাল ভাব থাকে।
রান্নায় কোথায় কোথায়
- ভর্তা: আলু, বেগুন বা শুঁটকি ভর্তায় কাঁচা তেল দিন — স্বাদ দ্বিগুণ।
- মাছ: সরষে ইলিশ, মাছের ঝোল বা ভাপা মাছে এর বিকল্প নেই।
- আচার: আচার ভালো রাখতে আর স্বাদ বাড়াতে সরিষার তেলই সেরা।
- রোজকার রান্না: তেল ভালো করে গরম করে নিলে কাঁচা ঝাঁঝ অনেকটা কমে আসে।
পুষ্টির কথা
সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি আর কিছুটা ওমেগা-৩ থাকে। তবে যেকোনো তেলই চর্বি — তাই পরিমাণমতো খাওয়াই স্বাস্থ্যকর।
কীভাবে রাখবেন
- রোদ আর চুলার তাপ থেকে দূরে, ঠান্ডা ও অন্ধকার জায়গায় রাখুন।
- প্রতিবার ব্যবহারের পর ঢাকনা শক্ত করে আটকান।
- বোতলের তলায় সামান্য তলানি জমা অপরিশোধিত তেলের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
দেখে নিন আমাদের ঘানিভাঙা সরিষার তেল।