বাজারে মধুর অভাব নেই, কিন্তু খাঁটি মধু নিয়ে সন্দেহও কম নয়। ঘরোয়া কিছু পরীক্ষার কথা প্রায়ই শোনা যায়। চলুন দেখি কোনটা কতটা ভরসাযোগ্য।
যেসব ঘরোয়া পরীক্ষায় ভরসা করা যায় না
- পানির পরীক্ষা: গ্লাসে ঢাললে খাঁটি মধু নিচে জমে, ভেজাল মিশে যায় — এমন বলা হয়। কিন্তু ঘন চিনির সিরাপও নিচে জমে।
- আঙুলের পরীক্ষা: ফোঁটা না ছড়ালে খাঁটি — এটি আসলে ঘনত্বের পরীক্ষা, খাঁটিত্বের নয়।
- আগুনের পরীক্ষা: মধুতে ভেজানো সলতে জ্বলবে কি না, তা নির্ভর করে মধুতে পানির পরিমাণের ওপর, ভেজালের ওপর নয়।
- পিঁপড়ার পরীক্ষা: পিঁপড়া মধু আর চিনি দুটোই সমান পছন্দ করে।
জমে যাওয়া মানেই ভেজাল নয়
অনেকে ভাবেন মধু জমে গেলে তাতে চিনি মেশানো। আসলে উল্টো — প্রাকৃতিক মধুর গ্লুকোজ ঠান্ডায় দানা বাঁধে। সরিষা ফুলের মধু তো কয়েক সপ্তাহেই সাদা মাখনের মতো জমে যায়। বোতল কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ রাখলেই আবার তরল হয়।
তাহলে কীভাবে বুঝবেন?
- উৎস জানুন: কোন ফুলের মধু, কোন এলাকার, কবে সংগ্রহ — বিক্রেতা তা বলতে পারেন কি না দেখুন।
- স্বাদ ও গন্ধ: ফুলভেদে মধুর রং, গন্ধ আর স্বাদ আলাদা হয়। সব মধু একই রকম লাগলে সন্দেহ করুন।
- ল্যাব টেস্ট: আর্দ্রতা, চিনির ধরন আর HMF-এর মতো মাপকাঠি দেখে কেবল পরীক্ষাগারেই নিশ্চিত হওয়া যায়।
- বিশ্বস্ত জায়গা থেকে কিনুন: যাঁরা সরাসরি মৌচাষি বা মৌয়ালদের কাছ থেকে মধু আনেন।
মনে রাখবেন: এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনো মধুই দেওয়া উচিত নয়।